মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ঘোষিত সময়সীমা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে Iran হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা বা নতুন কোনো সমঝোতায় না এলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো নমনীয় কোনো অবস্থানের ইঙ্গিত মেলেনি। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সময়সীমা অতিক্রম হলে ইরান সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধের বদলে ‘অসমমিত কৌশল’ (asymmetric strategy) গ্রহণ করতে পারে, যার প্রভাব আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
সম্ভাব্য পাঁচ কৌশল:
১. হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট Strait of Hormuz-এ উত্তেজনা বাড়াতে পারে ইরান। নৌচলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২. আঞ্চলিক জ্বালানি ও অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়া
বিশ্লেষকদের মতে, Saudi Arabia, United Arab Emiratesসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও পানি অবকাঠামো সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে। এসব স্থাপনায় হামলা হলে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
৩. সাইবার আক্রমণের আশঙ্কা
ইরানের সাইবার সক্ষমতা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ বা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪. আঞ্চলিক মিত্রদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি
ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী—যেমন Hezbollah এবং Houthis—এ অঞ্চলে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। এর ফলে সংঘাত একাধিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৫. কূটনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তনের চেষ্টা
China ও Russiaসহ কিছু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে তেহরান।
উপসংহার
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের লক্ষ্য সরাসরি সামরিক জয়ে পৌঁছানো নয়; বরং সংঘাতের ব্যয় বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে কৌশলগত চাপে রাখা। তবে পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
