দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস পিএলসির শেয়ারদর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, কারণ কোম্পানির এক স্পনসর তার সম্পূর্ণ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-তে দাখিল করা এক নিয়মিত তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, কোম্পানির স্পনসর ও সাবেক পরিচালক তসলিম উদ্দিন আহমেদ তার কাছে থাকা মোট ২৭ লাখ ৯ হাজার শেয়ার বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রচলিত বাজারদরে পাবলিক ও ব্লক মার্কেট—উভয় মাধ্যমেই শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এই ঘোষণার পরদিনই বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দিনশেষে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারদর ৪.৬৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩৮ টাকা ৯০ পয়সায়।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল কোম্পানির আরেক বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী ব্রুমার ফ্রন্টিয়ার তাদের মালিকানাধীন শেয়ারের একটি বড় অংশ বিক্রির ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি তাদের মোট ১ কোটি ৮৩ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৫০ লাখ শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা জানিয়েছিল। ফলে স্পনসর ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর একযোগে শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, কোম্পানিটি সম্প্রতি বৈদ্যুতিক যান (ইভি) খাতে প্রবেশের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৪ মার্চ, রানার অটোমোবাইলস চীনের প্রতিষ্ঠান BYD Auto Industry Company-এর সঙ্গে একটি মাস্টার সাপ্লাই ও ম্যানুফ্যাকচারিং চুক্তি সই করে। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশে ইলেকট্রিক যানবাহন উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও, বিনিয়োগের পরিমাণ ও আর্থিক প্রভাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আর্থিক পারফরম্যান্সের দিক থেকেও কোম্পানিটি মিশ্র অবস্থার মধ্যে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করলেও, দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) ১ কোটি ৪১ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বড় শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা সাধারণত বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা স্বল্পমেয়াদে শেয়ারদরে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে কোম্পানির নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
