দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে। ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি (বিএসআইসি)’ নামে গঠিত এ প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২৫ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের স্টার্টআপ খাতে দেশীয় মূলধনের ঘাটতি পূরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান। বিএসআইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪২৫ কোটি টাকার, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল গঠন করা হয়েছে। দেশের ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এই প্ল্যাটফর্মের শেয়ারহোল্ডার। ব্যাংকগুলো প্রতি বছর তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ এই তহবিলে যুক্ত করবে। ফলে এটি এককালীন তহবিল নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে মূলধন বৃদ্ধি পাবে। প্ল্যাটফর্মটির আওতায় সিড, লেট-সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ের স্টার্টআপে বিনিয়োগ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তায় পরিচালিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে। পুরো কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রুডেনশিয়াল ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় পরিচালিত হবে। অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে এবং স্টার্টআপ বিনিয়োগে এ উদ্যোগ আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। তিনি বলেন, “ক্রিয়েটিভ ইকোনমি গড়ে তুলতে এই প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগ কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না।” তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান বলেন, উদ্ভাবন, শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সময়োপযোগী। তিনি জানান, এর আগে ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ সফল না হলেও পরে তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিট লাভের ১ শতাংশ দিয়ে নতুন তহবিল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “দেশীয় মূলধনকে উৎপাদনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএসআইসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ২০১০ সাল থেকে দেশের স্টার্টআপ খাতে ৪৫০টির বেশি চুক্তির মাধ্যমে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছে। তবে এর মধ্যে দেশীয় বিনিয়োগের অংশ ৭ শতাংশেরও কম।
