মঙ্গলবার, জুন ২ , ২০২৬
১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের প্রয়োজনেই গত বছরের ২০ জুলাই থেকে সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় সেনাসদস্যরা ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মনোযোগ দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কুমিল্লা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাপ্রধান বলেন, “আমাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা, মনোবল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এতদিন দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা মাঠে নিয়োজিত ছিলাম। এখন থেকে আমরা ক্যান্টনমেন্টে ফিরে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করবো।”

তিনি আরও বলেন, দেশের যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। সরকার প্রয়োজন মনে করলে ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসবে। দেশের সংকটময় সময়ে সেনাসদস্যদের ভূমিকার কথা জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পরও সেনাসদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও ফায়ারিং সক্ষমতার প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, “গত ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের মধ্যেও সেনাসদস্যরা ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সেনাপ্রধান। উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দ্য অর্ডিন্যান্স (এমজিও), বাংলাদেশ অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরির কমান্ড্যান্ট, ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও কুমিল্লা এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সিলেট এরিয়ার এরিয়া কমান্ডারসহ সেনাসদর এবং বিভিন্ন ফরমেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share.
Exit mobile version