মঙ্গলবার, জুন ২ , ২০২৬
১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্দেশ দেশটির এক ডজন জ্যেষ্ঠ জেনারেল অমান্য করায় যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইরানে অভিযান ঘিরে ব্ভিাজন তৈরি হওয়ায় ওই সংকট তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মাঝে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ ১২ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে; যা আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় চাকরিচ্যুতির ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। জেনারেলদের এই অস্বীকৃতি কি কোনও ‘অবৈধ নির্দেশ’ প্রত্যাখ্যানের আইনি পদক্ষেপ, নাকি এটি সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণকে হুমকিতে ফেলার এক অবাধ্যতা, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন।

ইরানের মার্কিন হামলার সমর্থকরা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, সামরিক কৌশল নির্ধারণে কমান্ডার-ইন-চিফ বা প্রেসিডেন্টের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব রয়েছে এবং পেন্টাগনের যেকোনও ধরনের বাধা সরাসরি কমান্ড কাঠামোর লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, এই নির্দেশের বিরোধীরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে; পেন্টাগনের এমন নীতির ক্ষেত্রে দেশটির শীর্ষ সেনা জেনারেলরা প্রয়োজনীয় বাধা হিসেবে কাজ করছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, অভিজ্ঞ সমরকৌশলীদের সরিয়ে রাজনৈতিক অনুগতদের নিয়োগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশৃঙ্খল এবং অপ্রয়োজনীয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হতে পারে।

মার্কিনিরা যখন এই ধরনের পরিস্থিতি দেখছেন, পেন্টাগন তখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। এসব শূন্যপদ কীভাবে পূরণ করা হবে এবং চলমান অভিযানগুলোর ওপর এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শীর্ষ জেনারেলদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের এই দ্বন্দ্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

সূত্র: রোয়া নিউজ।

Share.
Exit mobile version