মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১ , ২০২৬
৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ঈদের টানা ছুটি থাকায় দেশের নানাপ্রান্ত থেকে পরিবার- পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরতে এসেছেন অনেকে। পাশাপাশি স্থানীয়দের ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ছুটে আসেন সমুদ্র বালিয়াড়িতে। দুইয়ে মিলে সমুদ্র সৈকত লোকে লোকারণ্য।

সোমবার, ২২ মার্চ, ঈদের তৃতীয় দিন সকাল থেকেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্র সৈকতের প্রতিটি পয়েন্ট। সরজমিনে দেখা যায় লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের পাশাপাশি হিমছড়ি, ইনানী ও পাটোয়ারটেক সমুদ্র সৈকতে আনন্দ উপভোগ করতে দেখা যায়। বিশেষ করে লাবনী পয়েন্ট ও সুগন্ধা পয়েন্টের দৃশ্য অন্য রকম, নোনা জলে সমুদ্রস্নান, সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে তালে জেটস্কিতে চড়ছেন, বালিয়াড়িতে বাইক আর ঘোড়া রাইড করছেন। সৈকতের বালিয়াড়ি, নীল জলরাশি আর হাওয়ার মিলনে মুহূর্তগুলো যেন আরও আনন্দময় হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, পর্যটকরা এই শহরের অতিথি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ যে কোনো সেবায় জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা সহ অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি টিম ও গোয়েন্দা টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি টিম পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, হোটেল-মোটেল-রিসোর্টসহ শহরের ৫ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কোথাও কোনো রুম খালি নেই। আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত বেশির ভাগ হোটেলের অগ্রিম বুকিং রয়েছে। আশা করছি এবার ঈদে ৭থেকে ১০ দিনে প্রায় ১০থেকে ১৫ লক্ষ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসতে পারে এবং প্রায় শতকোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকার উত্তরা থেকে ভ্রমনে আসা পর্যটক খলিলুর রহমান বলেন, পরিবার নিতে এসেছি প্রতিবছরই আসা হয় বিশেষ করে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ছুটে আসি। আমার দুই মেয়ে এক ছেলে খুব খুশি সাগরের জলে গোসল করতে পেরে।

কক্সবাজার সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার টিম লিডার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বিপুলসংখ্যক পর্যটক সমাগমের কারণে আমরা সীমিত লাইফ গার্ড দিয়ে সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছি, তারপর অবিরত সেবা দিয়ে যাচ্ছি, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা দিয়ে সতর্ক করছি এবং পর্যটকদের নিরাপদে সমুদ্রস্নান নিশ্চিত করছি।

Share.
Exit mobile version