শনিবার, জুন ৬ , ২০২৬
২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ার পর্যটনকেন্দ্র -এ ভেসে এসেছে বিরল ও বিশালাকৃতির একটি মৃত বেলিন প্রজাতির তিমি। বুধবার দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে সৈকতের ঝাউ বাগান সংলগ্ন পূর্বপাশে তিমিটি ভেসে আসে। তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮ ফুট, যা স্থানীয়দের মতে গত দুই যুগে কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে আসা তিমির মধ্যে সবচেয়ে বড়।

স্থানীয় জেলে ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীর সাগরে প্রথম তিমিটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়। পরে সাগরের প্রবল স্রোতের টানে সেটি ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে এগিয়ে এসে বিকেলে সৈকতের ঝাউ বাগান এলাকায় ভেসে ওঠে। তিমিটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা)-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিমিটি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে মৃতদেহটি দীর্ঘদিন পানিতে ভাসমান থাকায় এবং অর্ধগলিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবেশকর্মীরা জানান, এ ধরনের বড় সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু উপকূলীয় পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকির ইঙ্গিত দেয়।

উপরা’র আহ্বায়ক বাচ্চু খলিফা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি জাহাজের ধাক্কা, জাল বা অন্য কোনো মানবসৃষ্ট কারণে মারা গেছে-তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এটি আমাদের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি অশনিসংকেত। তিমিটির কঙ্কাল সংরক্ষণ করা গেলে গবেষণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিমিটির সুরক্ষা, অপসারণ ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের দিক বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপকূলবাসী ও পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রে নৌযান চলাচল বৃদ্ধি, শব্দদূষণ ও জলদূষণের প্রভাবের কারণেই এমন ঘটনা বাড়ছে। তারা সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ ধরনের ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Share.
Exit mobile version