রবিবার, এপ্রিল ২৬ , ২০২৬
১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিসিসিআইএর নির্দেশে আইপিএল স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দেওয়ার পর ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপে দল পাঠাতে চায়নি। ভারত থেকে ভেন্যু আরেক আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ করে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছিল তারা। কয়েক দফায় চিঠি চালাচালি শেষে আইসিসি জানায়, ভারতে অংশগ্রহণকারী কোনো দলের নিরাপত্তা শঙ্কায় নেই। তাই বাংলাদেশের ভেন্যু অপসারণের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ভারতেই খেলার শর্ত দেয় বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা। বাংলাদেশও তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে। এই পুরো সময়ে বাংলাদেশ পাশে পেয়েছে পাকিস্তানকে। আজ (শনিবার) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বললেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া উচিত ছিল।

গত ২১ জানুয়ারি পূর্ণ সদস্য দেশের বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে ভোটাভুটি হয়েছিল আইসিসির বৈঠকে। সেখানে পাকিস্তান বাদে অন্যরা বাংলাদেশের অবস্থানের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। তারই ভিত্তিতে আইসিসি জানিয়ে দেয়, খেলতে হলে ভারতেই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু তবুও বাংলাদেশ নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সবশেষ তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডের নাম ঘোষণা করে আইসিসি।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহসিন বললেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ড সভাতেও একই কথা বলেছি। আপনার দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না, যেখানে একটি দেশ যখন খুশি যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং অন্য একটি দেশের ক্ষেত্রে তার সম্পূর্ণ উল্টোটা করা হয়।’

বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার এমন দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা জানান তিনি, ‘এ কারণেই আমরা এই অবস্থান নিয়েছি যে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো মূল্যে তাদের বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দেওয়া উচিত। তারা (ক্রিকেটের) একটি প্রধান অংশীদার এবং এই অবিচার করা উচিত নয়।’

বিশ্বকাপ বয়কট করার সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে মহসিন বলেন, পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সরকার আমাদের যে নির্দেশনা দেবে, আমাদের অবস্থানও (বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে) সেটাই হবে। প্রধানমন্ত্রী এখন পাকিস্তানে নেই। তিনি ফিরলে আমি আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনাদের জানাব। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা তাদের মানি, আইসিসিকে নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি দেশ অন্য দেশকে নির্দেশ দিতে পারে না। আর যদি এই নির্দেশের চেষ্টা করা হয়, তবে পাকিস্তানের অবশ্যই নিজস্ব অবস্থান রয়েছে।’ পাকিস্তানও যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলে তবে সেক্ষেত্রে কোনো `প্ল্যান বি’ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে সিদ্ধান্ত আসতে দিন; আমাদের কাছে প্ল্যান এ, বি, সি, ডি সবই আছে।’

 

Share.
Exit mobile version