মালয়েশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফর শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত এবং পরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও দেশটির ছয়টি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় কুয়ালালামপুর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের দালিয়ান রওয়ানা হন তিনি। এর আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই, সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হয়। এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সম্মত হয় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।
পাশাপাশি আরসিইপিতে (রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ) যোগদান এবং আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদারে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানান।
দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্য দেন। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’ তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে, শ্রমিক নিয়োগপ্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী; যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’
দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই, সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণাসক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হওয়াকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।’
মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে দুই দেশের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।
মালয়েশিয়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।’ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বাসভবনে এই মধ্যাহ্নভোজ হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
এরপর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার শিল্পীরা নানা পরিবেশনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি পরিবেশন করে। দুই প্রধানমন্ত্রীসহ তাদের সহধর্মিণীরা এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার সহধর্মিণী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনীকে বিদায় জানান।
বাংলাদেশের আরসিইপি আবেদনে মালয়েশিয়ার সমর্থন : এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) যোগদানে বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং এই অঞ্চলে কৌশলগত ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে মালয়েশিয়া জানায়, ভবিষ্যতে আরসিইপিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খলাকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশ এ সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে আরসিইপি সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততায় সমর্থন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং আসিয়ানের কাঠামোর মধ্যে ঢাকার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মালয়েশিয়ার গঠনমূলক সমর্থনের আশ্বাস দেন।
দুই নেতার আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ও উন্নয়নে বাংলাদেশি শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও স্বীকার করেন তারা। মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিষয়টি উল্লেখ করে জানায়, দেশটির বিদ্যমান নীতির আলোকে নতুন বিদেশি কর্মী কোটার অনুমোদন প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।
বিদ্যমান শ্রমশক্তি অভিবাসন সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে বর্তমান বাস্তবতা ও প্রয়োজন অনুসারে একটি নতুন, হালনাগাদ কাঠামো তৈরির জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। নির্ভরযোগ্য এজেন্সির মাধ্যমে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন দুই নেতা।
ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে সহযোগিতা : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো অগ্রসরমাণ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা। তারা সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে হাইটেক পার্ক, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে মালয়েশিয়ার বৃহত্তর বিনিয়োগকেও স্বাগত জানান।
হালাল শিল্পে সহযোগিতা : দুই নেতা বৈশ্বিক ইসলামি অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক গুরুত্বের স্বীকৃতি দেন এবং বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করতে একমত হন। তারা মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট বিভাগ (জাকিম) ও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চলমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানান এবং হালাল সনদ প্রদান, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, গবেষণা, উদ্ভাবন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।
শিক্ষা, পর্যটন ও দক্ষতা উন্নয়ন : মালয়েশিয়ায় বর্তমানে অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বিষয়টি আলোচনায় আনেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তারা উচ্চশিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা উদ্যোগ এবং কারিগরি, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতার সম্প্রসারণে একমত হন।
জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ : জ্বালানি সহযোগিতাও আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল। উভয় পক্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যবিষয়ক বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরসহ অনাবিষ্কৃত খনিজসম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার : দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রশংসা করে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক পুরোপুরি কার্যকর করার অঙ্গীকার করেন দুই নেতা। এছাড়া সামরিক বিজ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা শিল্প অংশীদারত্বে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হন দুই নেতা।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত : আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুই নেতা। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে মালয়েশিয়া। নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের প্রতি সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করে কুয়ালালামপুর।
বৈশ্বিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান : দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন। তারা সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তির পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
ছয়টি বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পৃথকভাবে সাক্ষাৎ : কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার ছয়টি বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, খাজানাহ, পার্ডুয়া এবং এমএমসি পোর্ট। তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মালয়েশিয়ার রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ : মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনে আলমারহুম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে রাজপ্রাসাদ ইস্তেনায় রাজার সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতের সময় রাজার স্ত্রী রানি রাজা জারিথ সোফিয়া উপস্থিত ছিলেন।
দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা-সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন : প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন। এতে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, এই সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এক নতুন দিগন্তের সূচনা।
চীন সফরে যা থাকছে : এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) এবং একটি প্রটোকল।
সফরের শুরুতে আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) বৈঠকের কথা রয়েছে। ডব্লিউইএফ-এর বার্ষিক সভা সামার দাভোসে অংশগ্রহণকারী কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এদিন বিকালে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য দেবেন। তিনি সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আয়োজনে নৈশভোজে অংশ নেবেন।
পরদিন ২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। ওইদিন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বেইজিংয়ে তিনি অবস্থান করবেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে।
প্রধানমন্ত্রী ২৫ জুন সকালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজনে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে তিনি বক্তব্য দেবেন। চীনের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, সম্ভাবনা তুলে ধরে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন বিকালে তিনি গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ জুন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরবর্তী সময়ে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে আঞ্চলিক, দ্বিপক্ষীয় এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। এদিন তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারেক রহমান। বিকালে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার কথা রয়েছে।
