ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বেপজার বিপুল অংকের বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় কারখানাটি উচ্ছেদের হুমকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যবসায়িক সংকট কাটাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন কোম্পানির বিদেশি উদ্যোক্তারা।
থাইল্যান্ড, তাইওয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৯ জন বিনিয়োগকারী মিলে ১৯৯৭ সালে এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। চিঠিতে তারা জানান, বেপজার পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় তাদের কারখানাগুলো উচ্ছেদের মুখে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে অবন্ত গ্রেড ফ্যাশন ও শাইন ফ্যাশন নামক দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে দুজন বিদেশি পরিচালক দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন, আর অন্যরাও একই আশঙ্কায় দেশে আসতে পারছেন না। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ পিয়াল জানান, ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে কোম্পানিটির বড় অবদান ছিল। কিন্তু করোনা মহামারি পরবর্তী মন্দা, ঋণের বোঝা এবং চলতি মূলধনের অভাবে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ পুনর্তফসিলের সুবিধা পেলেও এখন রুগ্ণ ও বন্ধ কারখানার জন্য গঠিত ৪০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হবে।
রিং শাইন টেক্সটাইলসের এই পরিণতির পেছনে রয়েছে ২০১৯ সালের বিতর্কিত আইপিও (IPO) প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর তদন্তে দেখা গেছে, বিতর্কিত কাস্টমস কর্মকর্তা মতিউর রহমান এবং এফএআর গ্রুপের আব্দুল কাদের ফারুকের সিন্ডিকেট কোনো অর্থ জমা না দিয়েই ১১২ কোটি টাকার শেয়ার হাতিয়ে নিয়েছিল। এই কারসাজির ফলে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত ১৫০ কোটি টাকার আইপিও ফান্ডের অপব্যবহার হয়েছে এবং কোম্পানিটি দেউলিয়া হওয়ার পথে এগিয়েছে। বেপজার তথ্যমতে, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬.১৯ মিলিয়ন ডলার। বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্লটের ইজারা চুক্তি বাতিলের নোটিশ দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় বিনিয়োগকারীরাও কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছেন। অনিরুদ্ধ পিয়াল আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের সরাসরি সহযোগিতা পেলে বিদেশি মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি আবারও পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে।
