বৃহস্পতিবার, মে ১৪ , ২০২৬
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈশ্বিক অস্থিরতা সামাল দিতে আসন্ন বাজেটে জ্বালানি, খাদ্যসহ কয়েকটি খাতে ভর্তুকি বাড়াচ্ছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তামূলক খাতেও থাকবে বাড়তি নজর। কিছুটা বাড়ছে প্রণোদনার আকারও। নগদ ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে চলতি অর্থ-বছরের সমান বরাদ্দ রাখছে অর্থ বিভাগ। বিশ্লেষকরা বলছেন— মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংকটে চাপ তৈরি হয়েছে। চাহিদা পূরণে অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির প্রতিও তাগিদ তাদের। মূলত, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জ্বালানি তেলের সরবরাহ। চাহিদার তুলনায় কমেছে যোগান। বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে শিল্পের উৎপাদন। তাই আগামী বাজেটে জ্বালানি অর্থাৎ বিদ্যুৎ, গ্যাসে ভর্তুকি কিছুটা বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতে রাখা হচ্ছে বড় অংকের বরাদ্দ। সংশোধিত বাজেটের চেয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের ভর্তুকি। গ্যাসের ভর্তুকিতেও দেয়া হবে গুরুত্ব। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসে দরকার অতিরিক্ত বরাদ্দ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই খাতেও থাকছে ভর্তুকি। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী সারাদেশে চলমান রাখতে বাজেটে খাদ্য ভর্তুকি বাবদ মোট বরাদ্দ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে, সার আমদানি ও উৎপাদনে ভর্তুকির পরিমাণ বড়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কর্মসূচী বাস্তবায়নে লাগবে অতিরিক্ত বরাদ্দ। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, ‘প্রায় দেড়শোটির মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সত্যিকার অর্থেই দুঃসাধ্য কাজ।’ ফ্যামিলি কার্ড এই সমস্যার কিছুটা হলেও সম্পূরক সমাধানে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি। চলতি অর্থবছরের চেয়ে আগামী বাজেটে সরকারের বাড়বে প্রণোদনা খাতে ব্যয়। বিশেষ করে কৃষি খাত, রফতানি-নগদ, পাটজাত দ্রব্যাদি এবং রেমিটেন্স খাতে ব্যয় হবে প্রণোদনার অর্থ। সংশোধিত বাজেটের তুলনায় রেমিটেন্স খাতে প্রণোদনা বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। ধারণা করা হচ্ছে এই খাতে বাড়তে পারে ব্যয়। ঋণ গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে চলতি অর্থবছরের মতোই। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, মধ্যমেয়াদী অর্থনীতির বিকাশে মধ্যমেয়াদের সিগনালগুলো মুখ্য। গত দেড় দশক ধরে দেশে ঋণনির্ভর একটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান, যার ফলে সুদ পরিশোধের বোঝা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে জিডিপি’র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। টাকার অংকে যা ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।

 

Share.
Exit mobile version