বৃহস্পতিবার, মে ১৪ , ২০২৬
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি আর জীবিত ফিরে আসেননি। তুচ্ছ এক ঘটনায় দেশটিতে খুন হন তিনি। শনিবার (৯ মে) তার খন্ডিত মরদেহ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে পৌঁছালে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃষ্টির মরদেহ পৌঁছায়। দুপুরে তা নিয়ে যাওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুরে। একমাত্র মেয়ের নিথর দেহ দেখতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও শৈশবের বন্ধুরা। পুরো এলাকায় তৈরি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের বিরোধের জেরে ১৬ এপ্রিল ক্যাম্পাস থেকে বৃষ্টি ও লিমনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। পরে ৩০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বৃষ্টির খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, “সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটির এমন নির্মম মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।” বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে আনন্দ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিল। তাকে লাশ হয়ে ফিরতে হবে, এটা কখনো ভাবিনি। আমরা এই ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।” জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া বৃষ্টির অসমাপ্ত জীবন এখন কেবলই শোক আর বিচার দাবির আর্তনাদে পরিণত হয়েছে।

 

Share.
Exit mobile version