বৃহস্পতিবার, মে ১৪ , ২০২৬
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর পদত্যাগে অস্বীকৃতির পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন গভর্নর আর.এন. রবি। বিধানসভার মেয়াদ গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই বুধবার সন্ধ্যায় রাজভবন একটি চিঠি প্রকাশ করে। চিঠিতে সংক্ষেপে বলা হয়, ‘ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ)-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি ৭ মে ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিলাম।’

আজ শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়। এ বিষয়ে সেন্টার ফর লিগ্যাল পলিসির সাংবিধানিক আইন কেন্দ্র ‘চর্খা’-র প্রধান স্বপ্নিল ত্রিপাঠী বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ) অনুযায়ী বিধানসভা ভেঙে গেলে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক ভিত্তিও আর থাকে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র কেয়ারটেকার বা সর্বোচ্চ তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকতে পারেন, সাধারণত গভর্নরের অনুরোধে, যতক্ষণ না নতুন সরকার শপথ নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জীর পদত্যাগ না করলেও তা সাংবিধানিক অবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনে না। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকার বৈধতা আসে নির্বাচিত বিধায়কদের আস্থা থেকে; বিধানসভা না থাকলে সেই ভিত্তিও থাকে না। ফলে কেয়ারটেকার ব্যবস্থার বাইরে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সরাসরি কোনো পথ নেই।

প্রতিবেদনে জানান হয়, পরবর্তী ধাপ হলো নতুন বিধানসভা গঠন এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পাবেন, তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানোর কথা উল্লেখ্য করেছেন ত্রিপাঠী। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ থাকলে তার জন্য নির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। “রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫১”-এর আওতায় নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা যায়। এই ধরনের আবেদন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে করতে হয় এবং সেখানে নির্দিষ্ট আসনের নির্বাচনে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। বিধানসভা ভাঙার ফলে রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক অন্তর্বর্তীকাল শুরু হয়েছে। মমতা ব্যানার্জী এখনও নির্বাচনী ফলাফলের উপর নিয়মিত বিরোধ জানাচ্ছেন এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই এবার আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

 

Share.
Exit mobile version