মঙ্গলবার, জুন ২ , ২০২৬
১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক যাত্রা বরাবরই ছিল আলোচিত ও বিতর্কিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার জনপ্রিয়তার যে ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে, তা তাকে ইতিহাসের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্টদের তালিকায় ঠেলে দিয়েছে। সিএনএন-এর ‘পোল অব পোলস’ জরিপ অনুযায়ী, তার সমর্থনের হার নেমে এসেছে প্রায় ৩৫ শতাংশে। অর্থ হলো, তিনি এখন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের পর্যায়ে চলে এসেছেন। জিমি কার্টারের পর বুশই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি দীর্ঘ সময় ধরে ৩৫ শতাংশ বা তার কম অনুমোদন রেটিং-এ ছিলেন। এদিকে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ ও ইপসোসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, ট্রাম্পের প্রয়োজনীয় মানসিক সক্ষমতা নেই। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্পকে অযোগ্য মনে করেন তারা। বিপরীতে ৪০ শতাংশ তাকে সক্ষম বলে মনে করেন। সিএনএন, এপি। শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও জরিপে নেতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ট্রাম্প শারীরিকভাবে সুস্থ নন এবং ৪৪ শতাংশ তাকে সুস্থ মনে করেন। প্রায় ৬৭ শতাংশ নাগরিকের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ট্রাম্প যথেষ্ট বিচার-বিবেচনা করেন না। বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা জনগণের মধ্যে এই অসন্তোষ তৈরি করেছে। বিশেষ করে, অর্ধেকের বেশি মানুষ আগামী এক বছরে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন। মাত্র ২১ শতাংশ নাগরিক পরিস্থিতির উন্নতির আশা দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংস্থার জরিপেও ট্রাম্পের প্রতি মার্কিনিদের এই ক্রমবর্ধমান অনাস্থার চিত্র ধারাবাহিকভাবে উঠে আসছে। অথচ ট্রাম্প তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিছু জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষেও তার জনসমর্থন ৫০ শতাংশের ওপরে ছিল। কিন্তু তার এই সুসময় ছিল অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী, এবং দ্রুতই তার জনপ্রিয়তা বেশ কয়েক পয়েন্ট কমে যায়। বিভিন্ন দেশে শুল্কারোপ থেকে শুরু করে ইরানে হামলার মতো ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই তার জনপ্রিয়তায় ধস নামছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শুক্রবারের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ আমেরিকান ইরানে হামলাকে ভুল বলে আখ্যা দিয়েছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার একেবারে তলানিতে না নামলেও এই যুদ্ধের কারণে তার জনপ্রিয়তার ব্যাপক পতন ঘটেছে। আর এই সবকিছুই রিপাবলিকান পার্টিকে মাত্র ছয় মাস পরেই ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছ থেকে তীব্র তিরস্কারের ঝুঁকিতে ফেলছে। অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনের নীতি নিয়ে বাড়তে থাকা অসন্তোষের কারণে দলটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ভেতরের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করেছে হোয়াইট হাউজ।

Share.
Exit mobile version