বৃহস্পতিবার, মে ১৪ , ২০২৬
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বিধায় এর বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ।
রোববার টিআইবি কার্যালয়ে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘জনআস্থা পুনর্নির্মাণ: বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কামাল আহমেদ বলেন, অর্থনৈতিক কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মালিকদের প্রভাব ও কর্পোরেট স্বার্থ এখনও বিদ্যমান। সরকার পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদিও সরকারের দিক থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চাপ অনুভব করছি না, তবে কতদিন এই পরিস্থিতি থাকবে, তা দেখার বিষয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক, গোষ্ঠীগত বা ব্যবসায়িক স্বার্থে অথবা কারোর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এক ধরনের বয়ান তৈরি করতে প্রচার করা হয়। প্রচার, অপপ্রচার, অপতথ্য ও ভুয়া তথ্য— সবকিছুই এখন সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে।’ এর বিপরীতে সংবাদ মাধ্যম নানাবিধ নিয়ন্ত্রণ, নিপীড়ন এবং করপোরেট স্বার্থের নিগড়ে বাধা থাকায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজ সুজান ভাইজ উপস্থিত ছিলেন।
সুজান ভাইজ তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশেও চাপের মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাধীন গণমাধ্যম বিভিন্ন ধরণের দমন-পীড়ন এবং বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে এমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন যা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ না করে বরং সহায়তা বা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে, যেমনটি সুইডেনের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য তথ্যের নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা এবং পূর্ণাঙ্গতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কোনো সাংবাদিক নিহত না হওয়াকে বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করে সুজান ভাইজ বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতেও সাংবাদিকরা যেন নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সাথে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশাদার মান শক্তিশালী করতে হবে।’
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলা কঠিন। ইফতেখারুজ্জামান শুরুতে বলছিলেন আমি সিভিল সোসাইটির অংশ ছিলাম। ইদানিং এই অনুষ্ঠানগুলোতে আসলে মনে হয় ওইটাই ভালো ছিল। কারণ প্রচুর অভিযোগ, প্রচুর সমস্যা। একটা জিনিস ভালো লাগছে। এই সরকারকে সমালোচনা করা যাচ্ছে। রিয়াজ ভাই (ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক) যখন সরকারকে বকা দিচ্ছিলেন ওনার গলা অনেক চড়ে গেছে। বকার সময় কোনো সেন্সর না করেই বকা দিচ্ছেন। এটা আমাদের প্রতি স্বীকৃতি যে, এই সরকারকে উচ্চস্বরে বকা দেওয়া যায়। আমরা চাই সেটা অব্যাহত থাকবে।

Share.
Exit mobile version