বৃহস্পতিবার, মে ১৪ , ২০২৬
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৪ সালে পুনর্গঠনের পর International Crimes Tribunal (Bangladesh)–এ মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলার বিচার চলছে। আওয়ামী লীগ আমলে গুম, খুন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে দায়ের করা এসব মামলার মধ্যে চারটিতে ইতোমধ্যে রায় ঘোষণা হয়েছে। এসব রায়ে মোট ৫৫ জন দণ্ডিত হয়েছেন। আরও চারটি মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে মোট ২২টি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে একটি মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে এবং তিনটি মামলা যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলার চারটিই গণঅভ্যুত্থানকালে হতাহতের ঘটনাসংক্রান্ত।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর Faruk Ahmed জানান, বর্তমানে বিচারাধীন ২২টি মামলার পাশাপাশি আরও ৪১টি মামলা বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চলমান মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা ৪৫০ জনের বেশি। এর মধ্যে অন্তত ১৬০ জন গ্রেফতার, ২৯৩ জন পলাতক, একজন জামিনে এবং একজন মারা গেছেন।

গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন ৭৪ জন, পুলিশ সদস্য ৬৫ জন, সেনাবাহিনীর সদস্য ২০ জন এবং আনসার সদস্য একজন।

বর্তমানে যুক্তিতর্ক চলছে Hasanul Haq Inu–র বিরুদ্ধে একটি মামলায়। এছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক Mahbub Ul Alam Hanif–সহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়ে যেতে যাচ্ছে। পরবর্তী ধাপে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক Obaidul Quader–সহ সাতজনের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে।

রায়ের অপেক্ষায় একটি মামলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করে আহত করা এবং দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১–এ মামলাটি এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক। পুলিশের সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলা

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina, সাবেক মন্ত্রী Anisul Huq এবং তার উপদেষ্টা Salman F Rahman–এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার ছেলে Sajeeb Wazed Joy এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী Zunaid Ahmed Palak–এর বিরুদ্ধেও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

এছাড়া গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ একাধিক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এবং কথিত গোপন আটককেন্দ্র ‘আয়নাঘর’–সংক্রান্ত মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা Ziaul Ahsan–এর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

চার মামলায় ৫৫ জনের সাজা

ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর চারটি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব রায়ে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রথম রায়ে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Asaduzzaman Khan Kamal–কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া পুলিশের সাবেক আইজিপি Chowdhury Abdullah Al-Mamun রাজসাক্ষী হয়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পান।

এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার Habibur Rahman–সহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য Muhammad Saiful Islam–সহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

‘বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই’

চিফ প্রসিকিউটর Mohammad Aminul Islam বলেন, দেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা।

তিনি বলেন, “এই বিচারকাজের মাধ্যমে আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”

বর্তমানে আরও তিন থেকে চারটি মামলা রায়ের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি বছর আট থেকে ১০টি মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share.
Exit mobile version