বৃহস্পতিবার, মে ১৪ , ২০২৬
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দেশের ব্যাংক খাতে ২০২৫ সালের আর্থিক ফলাফলের চিত্র উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর অর্ধেকেরও বেশি এবার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণের চাপ, মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি ব্যাংক—যেমন ইসলামী, আইএফআইসি, প্রিমিয়ার, স্ট্যান্ডার্ড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, মার্কেন্টাইল, ন্যাশনাল, এবি, আল-আরাফাহ, বিআরএসি এবং বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক—লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। একইভাবে কিছু নতুন ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকও এই তালিকায় রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিকসহ কয়েকটি ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও উচ্চ খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তবে কিছু ব্যাংক সীমিত হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। যেমন প্রাইম ও পূবালী ব্যাংক ৩০ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংক ৩০ শতাংশ, যমুনা ব্যাংক ২৯ শতাংশ, ইবিএল ২৮ শতাংশ, এনসিসি ২৫ শতাংশ এবং ব্যাংক এশিয়া ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এছাড়া ট্রাস্ট, শাহজালাল ইসলামী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, সাউথইস্ট ও ঢাকা ব্যাংক তুলনামূলক কম হারে লভ্যাংশ দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতে সুশাসনের ঘাটতি, ঋণ বিতরণে অনিয়ম এবং পর্যাপ্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাবই মূলত এই অবস্থার জন্য দায়ী। তারা দ্রুত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

এদিকে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। লভ্যাংশ না পাওয়ায় অনেকেই ব্যাংক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা পুঁজিবাজারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কার্যকর নজরদারি বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ এবং কর্পোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

Share.
Exit mobile version