বৃহস্পতিবার, মে ১৪ , ২০২৬
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী দিনে দেওয়া আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman বলেছেন, সরকার প্রধানের চেয়ার দূর থেকে যতটা আরামদায়ক মনে হয়, বাস্তবে তা মোটেও আরামের নয়; বরং এটি অত্যন্ত কঠিন দায়িত্বের প্রতীক। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) Jatiya Sangsad–এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্য দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি জায়গা। এখানে বসলে প্রতি মুহূর্তে মনে হয় যেন আগুনের তপ্ত হাওয়া এসে লাগছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সংসদ বা জনসভায় জনপ্রিয় কথা বলে হাততালি পাওয়া সহজ, কিন্তু এই দায়িত্বের চেয়ার সেই সুযোগ দেয় না। এটি সবসময় মনে করিয়ে দেয়—জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নয়, সঠিক সিদ্ধান্তই নিতে হবে।”

তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং নানা সমস্যার সমাধানের দায় এই চেয়ারের দায়িত্বকে আরও ভারী করে তোলে। “আমরা যদি কেবল জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের পেছনে ছুটি, তাহলে হয়তো বাহবা পাব; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমি সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের বন্ধুদের আহ্বান জানাই—পপুলার নয়, সঠিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা করুন।”

কৃষি ও পরিবেশগত সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে জলাবদ্ধতা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সমস্যা ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman–এর ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির সুফল পেতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, বই ও জুতো সরবরাহের মাধ্যমে তাদের বিদ্যালয়ে আগ্রহী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে তারা গুণগত শিক্ষাদানে আরও মনোযোগী হতে পারেন।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধু হাসপাতালের ভবন নির্মাণ করলেই হবে না। সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং ওষুধের নিশ্চয়তাও থাকতে হবে।” বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং গন্তব্য একটিই—বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তোলা। সংসদীয় গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে যখনই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তখনই দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ১৭৩ দিনের হরতালের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সে সময় হয়তো কোনো সরকার ক্ষমতা হারিয়েছে, কিন্তু বুক চিরে কেউ বলতে পারবে না যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ক্ষতির বোঝা আজও আমাদের বহন করতে হচ্ছে।”

Share.
Exit mobile version