বৃহস্পতিবার, মে ১৪ , ২০২৬
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman বলেছেন, দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে কেউ আবার দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে। জনগণের শান্তি বিঘ্নিত করে আবারও ১৭৩ দিনের হরতালের মতো কর্মসূচি দেওয়ার চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে Jessore Central Eidgah ময়দানে জেলা Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “কোনো জুজুবুড়ির ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ত্যাগের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে। এখন সময় দেশ গড়ার এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “যারা স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছিল এবং গোপনে বৈঠক করেছে—তারা কি জনগণের কথা বলছে, নাকি যারা জনগণের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে তারা জনগণের কথা বলছে?” একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তারা ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। ১৯৯৬, ২০০৮ সালেও একই কাজ করেছে। আজ ২০২৬ সালেও তারা সেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের মাধ্যমে সেই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে জুলাই সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি, তার প্রতিটি শব্দ ও প্রতিটি লাইন সংসদে পাস করা হবে।”

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি Syed Saberul Haque Sabur–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় তারেক রহমান বলেন, একটি গোষ্ঠী নির্বাচনের আগে মানুষের কাছে ‘বায়বীয় টিকিট’ বিক্রি করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। “আমরা কোনো টিকিট বিক্রি করি না। দেশের মানুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman–এর দল এবং Khaleda Zia–এর দল বিএনপিকে কাজ করার জন্য নির্বাচিত করেছে,” বলেন তিনি।

নারীশিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের অর্ধেকই নারী। এই জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের স্বাবলম্বী করতে ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এর সংখ্যা হাজার থেকে লাখ এবং পরে কোটিতে উন্নীত করা হবে। এছাড়া রান্নার কষ্ট কমাতে ফ্যামিলি কার্ডের মতো এলপিজি গ্যাস কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের জন্য নেওয়া উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার সুফল পাবেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক। পাশাপাশি কৃষক কার্ড প্রদানও শুরু হয়েছে।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনারা অপেক্ষা করেন। ভবিষ্যতে জনগণ যদি আপনাদের প্রতি আস্থা রাখে, তখন আপনারা কাজ করার সুযোগ পাবেন। এখন জনগণ পাঁচ বছরের জন্য আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে।” জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক Nargis Begum, পানিসম্পদমন্ত্রী Shahid Uddin Chowdhury Annie, স্বাস্থ্যমন্ত্রী Sardar Shakhawat Hossain Bakul, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Anindya Islam Amit প্রমুখ।

এর আগে সকালে ঢাকায় থেকে যশোরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শার্শার উলাশীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী–যদুনাথপুর খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি Jashore Medical College–এ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং Jessore Institute Public Library পরিদর্শন করেন।

Share.
Exit mobile version