রবিবার, এপ্রিল ২৬ , ২০২৬
১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমসের ব্যবসায়িক দুরবস্থার মধ্যেও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে শেয়ারদর, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কোম্পানিটির দুটি কারখানার একটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, অন্যটিও প্রত্যাশিতভাবে পারফর্ম করতে পারছে না। জানা গেছে, নরসিংদীতে অবস্থিত একটি কারখানা প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে চালু থাকা কারখানাটির কার্যক্রমও মন্দার মধ্যে থাকায় কোম্পানিটি লোকসানে পড়েছে।

এরপরও গত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তদন্ত শুরু করলেও শুরুতে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।শেয়ার ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম

তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, আগেই গোপনে একটি গোষ্ঠীর কাছে মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এর প্রভাবেই শেয়ারদর বাড়তে থাকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারদর ছিল ২৬ টাকা। যা ২৩ এপ্রিল শেষে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা ৬০ পয়সায়। অর্থাৎ তিন মাসে শেয়ারটির মূল্য বেড়েছে ৩৪ টাকা ৬০ পয়সা বা ১৩৩ শতাংশ।

ডিএসইর পক্ষ থেকে দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, কোনো অপ্রকাশিত তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবে মালিকানা পরিবর্তনের আলোচনা চলছিল, যা নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী আগে থেকেই জানত। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোম্পানির ভেতরের তথ্য আগেভাগে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যাওয়াটা দেশের শেয়ারবাজারের বড় সমস্যা। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং বাজারের স্বচ্ছতা ব্যাহত হয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) কোম্পানিটি তাদের মোট শেয়ারের ৩০ শতাংশ বিক্রির সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে থাকা ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব শেয়ার অফ-মার্কেট লেনদেনের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে।স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকা

প্রস্তাবিত ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড। এছাড়া ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী হিসেবে রয়েছেন শেখ জসিম উদ্দিন ও ফারিয়া হোসেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হবে। এই লেনদেনের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর অনুমোদন নেওয়া হবে। শেয়ার হস্তান্তর শেষ হলে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে ক্রেতারা।

এদিকে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সাফল্য দেখাতে পারেনি। ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ডিএসইর একটি পরিদর্শন দল নরসিংদীর কারখানাটি বন্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরিদর্শনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কারখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়মিতভাবে ডিএসইর ওয়েবসাইটে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছে।

কারখানা বন্ধ থাকার প্রভাব কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৯ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৯ পয়সা। এরফলে কোম্পানিটির সম্পদ মূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৫ পয়সায়। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৭ টাকা ১৬ পয়সা।

Share.
Exit mobile version