সোমবার, এপ্রিল ২০ , ২০২৬
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীর ডোমারে মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে    ভ্রাম্যমাণ আদালতে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শায়লা সাঈদ তন্বী এঁর নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে এক প্রসূতি মায়ের সিজারের পর ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় স্বজনদের নবজাতক বিক্রি করে বিল পরিশোধের কথা বলা ও তাদের আটক রাখার অভিযোগ উঠে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযান চালিয়ে ওই ক্লিনিক মালিক পক্ষকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সন্মূখীন করেন। ডোমার পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়া উপজেলা পরিষদ মোড় এলাকায় মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্তাধিকারী ডাঃ ফারজানা আফরিনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫৩ ধারা লঙ্গন করায় ১,৫০,০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। আদায়কৃত জরিমানার টাকা ডিসিআর মূলে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাইদ তম্বী জানাান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ক্লিনিকটিতে দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। এসব অনিয়মের জন্য ক্লিনিকটিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ডোমার উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতী এলাকার রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা দম্পতির দাবি, ভর্তি সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ২২হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু সিজারের পর অনেক চেষ্টা করেও টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ফারজানা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং এক পর্যায়ে টাকা না দেওয়ায় প্রসূতি ও তার স্বজনদের একটি রুমে আটকে রেখে রোগীর ঔষধও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্লিনিকের বিল পরিশোধের জন্য তাদের বাচ্চা বিক্রির কথা বলেন।অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ফারজানা বলেন, বাচ্চা বিক্রি করতে বলেছি এটা সত্য নয়। নির্ধারিত সময়ে রোগী রিলিজ নিতে পারছিল না, তাই বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। ক্লিনিকে অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন, ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সোহান চৌধুরী, মেডিকেল অফিসার ডাঃ আইনুল হক, সেনেটারী ইন্সপেক্টর অজয় চন্দ্র রায় ও ডোমার থানা পুলিশ। এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা কালে ডোমার পৌরসভার পশ্চিম চিকনমাটি, জুম্মাপাড়া নামক স্থানে। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারালঙ্ঘন করে নেশাজাতদ্রব্য সেবন করায় পশ্চিম চিকনমাটি, জুম্মাপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে জহুরুল শেখকে ০৭(সাত) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ১০০/-(একশত) টাকা জরিমানা করা হয়। আসামীকে কয়েদি পরোয়ানামূলে নীলফামারী জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

Share.
Exit mobile version