বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে পরিবর্তন করে নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, আর্থিক খাতে সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ, মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা জোরদারের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। নতুন গভর্নর হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের দক্ষতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনার সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হতে পারে। বর্তমান গভর্নরের মেয়াদ, দায়িত্ব পালনের মূল্যায়ন এবং চলমান আর্থিক পরিস্থিতি—সবকিছু বিবেচনায় রেখে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং ডলারবাজারের চাপ সামাল দেওয়ার বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এদিকে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে মুদ্রানীতি ও আর্থিক খাতে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে। তবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট রাখাই হবে নতুন গভর্নরের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে সমাবেশ
এ দিকে বিভিন্ন দাবি পূরণ ও তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো এবং বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সকালে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এসব দাবি না মানলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে কলমবিরতিতে যাবেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা—এমন ঘোষণা দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের প্রতিবাদে সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা অংশ নেন।
যা বললেন আহসান এইচ মনসুর
গভর্নরের পদত্যাগ চায় কর্মকর্তারা, এ নিয়ে জানতে চাইলে আহসান মনসুর বলেন, ‘পদত্যাগ করতে আমার মাত্র দুই সেকেন্ড সময় লাগবে। আমি এখানে এসেছি জাতির সেবা করতে। দেশের এই সংকটকালীন সময়ে জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’ কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ সভার পর বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর।
আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, কিছু কর্মকর্তা স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় পরিচালিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন। কর্মকর্তাদের অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে। যদি কেউ প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাজ করতে চান, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রক্ষায় কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।
