গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত ভোটের সীমা অতিক্রম করতে না পারায় তারা জমা রাখা জামানত ফেরত পাবেন না। বড় দলের পরিচিত নেতা থেকে নতুন মুখ, কেউই শেষ পর্যন্ত ভোটের সমীকরণে সুবিধা করতে পারেননি।
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের এই প্রার্থী পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৭ ভোট। প্রত্যাশার তুলনায় কম ভোট পাওয়ায় তার ফলাফল স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
একইভাবে জামানত হারাতে যাচ্ছেন, এডভোকেট আজিজুল ইসলাম, যিনি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন থেকে হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ২০৭ ভোট পেয়েছেন। নির্মল চন্দ্র রবিদাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী, পেয়েছেন ৪৬৮ ভোট। আর রাহেলা খাতুন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) প্রার্থী, কাঁচি প্রতীকে পেয়েছেন ২৪৯ ভোট।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও দুজন জামানত রক্ষা করতে পারেননি। জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান এ.এইচ.এম গোলাম শহীদ রঞ্জু ৮ হাজার ৭০৬ ভোট পেলেও তা জামানত রক্ষার জন্য যথেষ্ট হয়নি। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ পেয়েছেন ৪৯৯ ভোট।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী মোট বৈধ প্রদত্ত ভোটের নির্ধারিত অংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৮৯৯টি।
