রবিবার, এপ্রিল ২৬ , ২০২৬
১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন পাঁচটি, সংশোধিত পাঁচটি ও মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প চারটি। এগুলোতে ব্যয় ধরা অর্থের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন আট হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ পাঁচ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

১৪টি প্রকল্প হলো-

  • এক্সপান্ডিং অ্যাকসেস ফর ইন্টিগ্রেটেড হেলথ কেয়ার অব দ্য আরবান পপুলেশন প্রজেক্ট।
  • কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।
  • পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।
  • রেজিলেন্ট ইনফ্রাস্টাকচার ফর অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড ভালনারিটি রিডাকশন প্রজেক্ট।
  • চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।
  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।
  • ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প।
  • ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্প।
  • সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প।
  • বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক (জেড-৮৯১০) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।
  • বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল (চর কাউয়া) থেকে ভোলা (ইলিশা ফেরীঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।
  • বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষ্মীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ প্রকল্প।
  • বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প।
  • মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।

মোদন পেলো না সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প:

সহসাই হচ্ছে না বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণ কাজ। প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬৪৯ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রাণকেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। সরকারি অর্থায়নে ২০২৯ সালের জুন মেয়াদের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সচিবালয় প্রাঙ্গণে অধিকসংখ্যক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থান সংকুলান, জমির সুষ্ঠু ব্যবহার ও সরকারি অর্থের সুষ্ঠু উপযোগিতা নিশ্চিত করাই হলো প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।

এই প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২১ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে চারটি বেজমেন্টসহ একটি ফাউন্ডেশন, সুপার স্ট্রাকচার, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন ও গ্যাস সংযোগ। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলাধার নির্মাণ করা হবে।

সেই সঙ্গে দুটি সাব-স্টেশন (প্রতিটি ২ হাজার কেভিএ), জেনারেটর (দুটি ৫০০ কেভিএ ও তিনটি ৪০০ কেভিএ) ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। থাকবে ছয় সেট প্যাসেঞ্জার লিফট, ছয় সেট ফায়ার লিফট ও দুই সেট বেড লিফট। অগ্নিনিরাপত্তা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা স্থাপন এবং মাল্টিমিডিয়াসহ কনফারেন্স সিস্টেমও থাকবে। এর সঙ্গে নির্মাণ করা হবে ২০টি আধুনিক কনফারেন্স রুম।

পরিকল্পনা বিভাগ বলছে, সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়। অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সচিবালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বাস্তবায়িত হয়। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বহুলাংশে এবং সামগ্রিকভাবে সেবা বৃদ্ধি পাওয়ায় কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, বিদেশি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাসহ সাধারণ জনগণ নিজ নিজ প্রয়োজনে এখানে আগমন করেন।

সচিবালয়ে বর্তমানে বিদ্যমান স্থাপনাগুলো ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকারীর চাহিদা পূরণে সক্ষম হচ্ছে না। প্রস্তাবিত ভবনটি নির্মিত হলে সচিবালয়ে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৬ বর্গফুট জায়গা পাওয়া যাবে, যাতে অতিরিক্ত চাহিদার ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ পূরণ হবে। এর মাধ্যমে আরও উন্নত সেবা প্রাপ্তি সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে পরিকল্পনা বিভাগ।

Share.
Exit mobile version