মুখের ফোলা ভাব কমাতে, মসৃণ এবং তরতাজা ত্বক পেতে হিমশীতল গোলকই হতে পারে নিত্যসঙ্গী। সঠিক পন্থায় নিয়ম করে ব্যবহার করতে পারলেই ত্বকে মিলবে স্পায়ের মতো জেল্লা। আর স্বচ্ছ ও শীতল আইস গ্লোব ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে এবং ফোলাভাব দূর করে ত্বককে মুহূর্তেই প্রাণবন্ত ও টান টান করে তোলে।
আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে— এই ত্বকের যত্নে ‘কোল্ড থেরাপি’ কিংবা ‘আইস থেরাপি’-তে ভরসা রাখেন বলিউডের বড় বড় তারকারাও। বিশেষ করে অভিনেত্রী আলিয়া ভাট, প্রিয়াংকা চোপড়া, ক্যাটরিনা কাইফ, অনন্যা পান্ডের মতো অভিনেত্রীদের রূপচর্চায় বরফজলের ব্যবহার বারবারই দেখা গেছে। তবে ত্বকে বরফ ব্যবহারের ফলে কিছু ক্ষতিকর দিকও দেখা গেছে।
তাই এবার বরফের বদলে গোলকের হিমশীতল স্পর্শে ত্বকের পরিচর্যার কৌশল, আগামী দিনে হতে চলেছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আইস গ্লোব ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি—
ছোট্ট হাতলযুক্ত স্বচ্ছ গোলাকার সরঞ্জামটি প্রসাধনীর বাজারে খুব নতুন নয়। মূলত কাচের হলেও স্টিল ও প্লাস্টিকের গোলাকার ফেশিয়াল রোলারও হয়। কোনো কোনো গোলকের ভেতরে থাকে জেলের মতো পদার্থও। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে তা ব্যবহার করা হয় মুখে মাসাজের জন্য।
যেভাবে ব্যবহার করবেন আইস গ্লোব
আপনার সৌন্দর্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আপনার ত্বকেই। উজ্জ্বল ও সুন্দর ত্বক পেতে শুধু ক্রিম-সিরাম নয়, কদর বাড়ছে জেড রোলার, গুয়া সা-র মতো রূপচর্চার সরঞ্জামের। সে তালিকায় আরেক সংযোজন ‘আইস গ্লোব রোলার’। সেভাবে জনপ্রিয়তার তালিকায় না থাকলেও ছোট্ট স্বচ্ছ গোলকই আগামী দিনে হয়ে উঠতে পারে আপনার রূপচর্চার মধ্যমণি।
মুখের ফোলা ভাব কমাতে, মসৃণ ও তরতাজা ত্বক পেতে এই ছোট্ট জিনিসটি হতে পারে নিত্যসঙ্গী। সঠিক পন্থায় নিয়ম করে ব্যবহার করতে পারলেই ত্বকে মিলবে স্পায়ের মতো জেল্লা।
উপকারিতা
মুখের ফোলাভাব কমিয়ে দেয় আইস গ্লোব। ঘুম থেকে ওঠার পর সাধারণত চোখমুখ ফোলা দেখায়। বরফ-শীতল গোলকের স্পর্শে রক্তবাহী নালি সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ায় ফোলা ভাব কমে যায়। আর ত্বকে আনে ঔজ্জ্বল্য। শীতল স্পর্শে রক্তনালি সঙ্কুচিত হয়, আবার খানিক পর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তা আগের মতোই প্রসারিত হয়ে যায়। এই সঙ্কোচন-প্রসারণের ফলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। এর ফলে ত্বক প্রাণবন্ত দেখায়। আর আইস গ্লোবের হিমশীতল স্পর্শে ত্বকে থাকা খোলা বা উন্মুক্ত ছিদ্রগুলো সাময়িকভাবে সঙ্কুচিত হয়ে যায়। ফলে ত্বক অনেক বেশি মসৃণ দেখায়। যদিও এই প্রভাব সাময়িক। রোদের তাপে মুখে ত্বকে জ্বালা হয়। আর শীতল স্পর্শের মাসাজে অত্যন্ত আরামদায়ক হয়। বিশেষ করে গরমের দিনে তা স্বস্তিদায়ক। প্রদাহ কমাতে, জ্বালাপোড়া ভাব কমাতেও সাহায্য করে গ্লোবের ঠান্ডা পরশ।
আইস গ্লোব ব্যবহারে আরও কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে—
প্রথমেই মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। তারপর ভালো কোনো মাসাজ ক্রিম বা ফেশিয়াল অয়েল মেখে নিতে পারেন। আর শীতল গোলকটি ব্যবহারের নিজস্ব পন্থা রয়েছে। রোলার টানতে হবে মুখের নিচ থেকে উপরের দিকে। বিশেষত ত্বক টান টান করতে হলে এমন পদ্ধতি মানতে হবে। দুই হাতে দুটি রোলার নিন। থুতনির মাঝ বরাবর সেটি ধরে দুই হাতের সাহায্যে একই সঙ্গে চোয়াল বরাবর কান পর্যন্ত নিয়ে যান। পরের ধাপে রোলার রাখুন থুতনির আর একটু উপরে। একই ভাবে নিচ থেকে উপরের দিকে টানুন। চোখের চারপাশে রোলারটি আলতো করে গোলাকার ভাবে ঘুরিয়ে নিন। এরপর নাকের দুই পাশে চোখের কোণ থেকে সেটি টানতে হবে চোখের দুই পাশের প্রেশার পয়েন্ট পর্যন্ত। এ ছাড়া কপালে ব্যবহার করুন নিচ থেকে উপরে।
‘কোল্ড থেরাপি’-র উপকারিতা থাকলেও সব ধরনের পন্থা সব ত্বকে উপযুক্ত নয়। আইস গ্লোব রোলার নিরাপদ হলেও ত্বকের ধরন এবং প্রয়োজন বুঝে তা ব্যবহার করা উচিত।
১. মাসাজের পন্থা ঠিক না হলে হিতে-বিপরীত হতে পারে। মাসাজের সময় জোরে চাপ দেওয়া যাবে না। হালকা হাতে ফেশিয়াল মাসাজের কায়দাতেই কাজ হবে।
২. ত্বকে কোনো ক্ষত থাকলে বা সংক্রমণ হলে এড়িয়ে চলাই ভালো।
৩. স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য এ থেরাপি নয়। প্রবল ঠান্ডায় অনেকেরই সমস্যা হয়। ত্বক অল্প লাল হলে অসুবিধা নেই। বেশি লাল হয়ে গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
৪. ফেশিয়াল গ্লোব ব্রণ সারাতে পারে না। তবে ব্রণের ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হলে খানিক আরাম মেলে। ব্রণ ফেটে পুঁজ হয়ে থাকলে ব্যবহার না করাই ভালো।
৫. অনলাইন ও অফলাইনে আইস গ্লোব রোলার পাওয়া যায়। গুণমান অনুযায়ী দাম হয়। ৫০০ তেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন মানের সরঞ্জাম মেলে।
