মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১ , ২০২৬
৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজগুলোকে পাহারা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী এখনও ‘প্রস্তুত নয়’ বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

“হ্যাঁ এটা সত্যি যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর থেকে জ্বালানি পরিবহনে কিছু সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু আপনি যদি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে স্বল্পমেয়াদি কিছু যন্ত্রণা আপনাকে সহ্য করতে হবে।”

সাক্ষাৎকারে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, “এটা হয়তো শিগগিরই ঘটবে, কিন্তু এখন সম্ভব নয়। আমরা প্রস্তুত নই। কারণ এই মুহূর্তে আমাদের সমস্ত সামরিক শক্তি ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং এই সক্ষমতা উৎপাদনকারী যাবতীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার কাজে মনযোগ দিয়েছে। আমি এমনটাই মনে করি।”

আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

একই দিন অপর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকেও সাক্ষাৎকার দেন ক্রিস রাইট। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যে ক্ষমতার বলে গত ৪৭ বছর ধরে হরমুজ প্রণালীকে হুমকির মুখে রেখেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী সেই ক্ষমতাকেই ধ্বংস করতে সেখানে গিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সেনা না পাঠাতো, তাহলে নিজেদের পরমাণু অস্ত্র ও ব্যাপক আকারের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জোরে আর অল্প কিছুদিনের মধ্যে ইরান স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালি দখল করে নিতো।”

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ না করলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলচলকারী মার্কিন, ইসরায়েলি কিংবা তাদের প্রতি মিত্রভাবাপন্ন দেশগুলোর জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা করা হবে।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কয়েকটি জাহাজে হামলা করাও হয়েছে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে ১০টির বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রি সরকার হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে তোলার হুমকি দিয়েছে।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এটা অসম্ভব। তবে তারপরও আমরা সামরিক অভিযানের দিকেই মনোযোগ দেবো।”

Share.
Exit mobile version