শুক্রবার, মে ১৫ , ২০২৬
১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে আপাতত সংকট না থাকলেও বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সংকট মোকাবিলায় বিকল্প খুঁজছে সরকার। বাংলাদেশে প্রয়োজনের প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। এর মধ্যে বড় অংশের জ্বালানি আমদানি করতে হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি নিয়ে মহাসংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনার কথাও বলছে সরকার।

ইতোমধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা আরামকোর একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। আরামকোতে হামলার পর আরেক জ্বালানি কেন্দ্র রাস তানুরা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সৌদি সরকার। পাশাপাশি আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইনসহ আমিরাতের দেশগুলোতে অব্যাহত মিসাইল ও ড্রোন হামলায় পুরো সংকট আরও দীর্ঘতর হচ্ছে। আমাদের হাতে এখন ১৫ দিনের মতো জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে আমাদের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের জন্য সমস্যায় পড়তে হবে না। কারণ আমাদের পরিশোধিত জ্বালানির বেশিরভাগ আমদানি হয় সিঙ্গাপুর, চায়না, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।-বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান

হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির দুই প্রবেশমুখে বর্তমানে শত শত জ্বালানি তেল ও এলএনজিবাহী জাহাজ আটকা পড়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তত ১৫০টি বিশালাকার ট্যাংকার এখন হরমুজ প্রণালির বাইরে খোলা সমুদ্রে নোঙর করে অবস্থান করছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজিবাহী জাহাজের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া প্রণালির অপর প্রান্তেও কয়েক ডজন জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে। পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে ওমান উপসাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে জাহাজ আসে। গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে অচলাবস্থার কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দেশে জ্বালানি চাহিদা ও মজুত
দেশে ৭২-৭৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম তরল জ্বালানির চাহিদা রয়েছে। এর ৯৮ শতাংশের মতো আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিতসহ পরিশোধিত ডিজেল, অকটেন, জেড ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে হয়।

জ্বালানি মজুত

২ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, বিপিসির মালিকানা ও অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর ডিপোতে ৪ লাখ ২০ হাজার ৭৬৫ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল রয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ১২৭ টন। যা দিয়ে দেশে ১৪ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাছাড়া ৩৪ হাজার ১৩৩ টন অকটেন, যা দিয়ে ৩০ দিন, ২১ হাজার ৭০৫ টন পেট্রোল, যা দিয়ে ২০ দিন, ৩৮ হাজার ৭৭৭ টন জেট ফুয়েল, ১৬ হাজার ৫৪৮ টন কেরোসিন, ৭৮ হাজার ২৭৮ টন ফার্নেস অয়েল, ৬ হাজার ২৭৫ টন মেরিন ফুয়েল মজুত রয়েছে। চলতি মাসে আরও ৪ লাখ টনের মতো ডিজেল আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি চলতি মাসে এক লাখ টনের ক্রুড অয়েল আসার কথা। জিটুজি পদ্ধতির এ আমদানির ক্রুড বোঝাই করতে গিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে নর্ডিক পোলাক নামের ট্যাংকার জাহাজটি। আমরা বিকল্প অনেক উৎস থেকে এলপিজি আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের প্রভাব অনেক বড়। যার নেতিবাচক প্রভাব সারাবিশ্বে পড়বে। আমাদেরও এ প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।-লোয়াব সভাপতি আমিরুল হক

বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের হাতে এখন ১৫ দিনের মতো জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে আমাদের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের জন্য সমস্যায় পড়তে হবে না। কারণ আমাদের পরিশোধিত জ্বালানির বেশিরভাগ আমদানি হয় সিঙ্গাপুর, চায়না, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।’তিনি বলেন, ‘আমাদের অপরিশোধিত ক্রুডগুলো আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এ মাসে এক লাখ টন ক্রুডের একটি চালান আসার কথা রয়েছে। জাহাজটি ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসার কথা। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে সারাবিশ্বে এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশেও এ প্রভাবের বাইরে নয়।’

Share.
Exit mobile version