বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩ , ২০২৬
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি চীনা মাছ ধরার জাহাজ আটক এবং ক্যাপ্টেন গ্রেফতারের ঘটনা জাপান-চীন সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে ফেলেছে। নাগাসাকি উপকূলে পরিদর্শনের নির্দেশ অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করায় জাহাজটি আটক করা হয়েছে, জানায় জাপান কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।

জাহাজটির সঙ্গে মোট ১১ জন আরোহী ছিল, যাদের মধ্যে ৪৭ বছর বয়সী চীনা ক্যাপ্টেন গ্রেফতার হয়েছেন। জাপানী কর্তৃপক্ষ এবং গণমাধ্যমে এই জাহাজকে ‘টাইগার নেট’ নামের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাছ ধরার নৌযান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জাপানের মৎস্য সংস্থা জানিয়েছে, পরিদর্শনের নির্দেশ না মানায় এবং পালানোর চেষ্টা করায় বৃহস্পতিবার জাহাজটি আটক করা হয় এবং ক্যাপ্টেনকে গ্রেফতার করা হয়। সংস্থাটি আরও জানায়, একজন মৎস্য পরিদর্শক জাহাজটিকে থামার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটি তা উপেক্ষা করে পালানোর চেষ্টা করে, পরে জাহাজটি আটক করা হয়। এটি ২০২২ সালের পর প্রথম ঘটনা, যখন জাপান একটি চীনা মাছ ধরার নৌযান আটক করল। এই ঘটনায় চীন এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। শুক্রবার জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেছেন, বিদেশি জাহাজের অবৈধ মাছ ধরার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন জাপান এবং চীনের সম্পর্ক ইতিমধ্যেই চরম টানাপোড়েনে রয়েছে। গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন, চীন যদি বলপ্রয়োগে তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তবে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

এই রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দুই দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। চীনা পর্যটকদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জাপানের পর্যটন এবং খুচরা খাত সংশ্লিষ্ট শেয়ারের দাম পতন ঘটেছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ায় ২০২৫ সালের শেষে চীন বারবার তাকাইচিকে তার মন্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায় এবং জাপানকে ‘আগুন নিয়ে না খেলতে’ সতর্ক করে। এদিকে, চীনে সফররত জাপানি শিল্পীদের কয়েকটি অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে, জনপ্রিয় জাপানি চলচ্চিত্রের মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং গত মাসে জাপানের দুটি পান্ডাও চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

Share.
Exit mobile version