বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩ , ২০২৬
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরি, সুশাসন আর ভয় ছাড়া কথা বলার স্বাধীনতা চায় বাংলাদেশের জেনজি। ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে সাবেক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরআগে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তারা।

রয়টার্স বলেছে, ২০০৯ সালের পর কালকের নির্বাচনকে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য একটি চূড়ান্ত ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রয়টার্স বলেছে, ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বাংলাদেশে টানা কয়েক মাসের অস্থিতিশীলতা বড় বড় শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করেছে। যারমধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ তৈরি পোশাক খাতও আছে।

রয়টার্স আরও বলেছে, ২০২২ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ২৮ শতাংশ নাগরিকের বয়স ১৫ থেকে ২৯। যারা জেন-জির অন্তর্ভুক্ত। হাসিনার পতনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর এই তরুণদের বড় একটি অংশ ভোট দিতে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর তারা কাকে ভোট দিবে সেটি এবারের নির্বাচনের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে গণঅভ্যুত্থানের পর আসা অন্তর্বর্তী সরকারে খুব বেশি সংস্কার না হওয়ায় এবং দৃশ্যমান বিকল্প কোনো দলের উত্থান না হওয়ায়, পরবর্তী সরকার গঠনের যুদ্ধের জন্য বিএনপি ও জামায়াতই রয়ে গেছে। যারা উভয়ই প্রতিষ্ঠিত দল।

ফারহান সাদিক নামে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ রয়টার্সকে বলেছেন, “এই নির্বাচন এসেছে জুলাই আন্দোলন থেকে। যদি প্রার্থীরা মনে করেন তারা পুরোনো উপায়ে দেশ চালাবেন, তাহলে এটি কাজ করবে না।”

রয়টার্স বলেছে, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান থেকে সৃষ্টি হওয়া তরুণদের দল এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করলেও; বেশিরভাগ বিশ্লেষক বলছেন বিএনপি নির্বাচনে জয় পাবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শাকিল আহমেদ বলেছেন, “তরুণরা নতুন রাজনৈতিক শ্রেণিকে ক্ষমতায় দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। যেহেতু নবগঠিত দল বিস্তৃত রাজনৈতিক প্লাটফর্ম দেয়নি। বিএনপি তরুণদের চয়েজ হতে পারে।”

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আসিফ শাহান বলেছেন জেন-জি ভোটাররা জামায়াতকে সমর্থন দেবে। তিনি বলেন, “এটি হয়ত চূড়ান্ত কোনো কিছু হবে না। কিন্তু তরুণদের ভোট জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসাহ হবে।”

রয়টার্সের সঙ্গে যেসব তরুণ কথা বলেছেন তাদের সবাই চাকরি এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে নিজেদের প্রধান বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বগুড়ার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী মনিকা আক্তার, তিনি প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। মনিকা রয়টার্সকে বলেছেন, “আমি আশা করি নতুন সরকার আমার মতো চাকরিপ্রার্থীদের বুঝবে। আমরা চাকরির নিয়োগে ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা চাই। বিশেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। তারা সবচেয়ে বেশি ভোগে।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ২১ বছর বয়সী মোহাম্মেদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে বেকার থাকেন। এটি খুবই কষ্টের। আমরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরিবহীন থাকতে চাই না। আমরা তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষা চাই যেন বিশ্বব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি।”

দেশজুড়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় ২ হাজার ২০০ কলেজ রয়েছে।

স্বৈরাচার হাসিনার আমলে লঙ্ঘন হওয়া বাকস্বাধীনতা জেনজির আরেক প্রধান ইস্যু।

২২ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাইমুম জাহান নামে এক সাংবাদিক বলেছেন, “ফ্যাসিস্টের আমলে আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারিনি। যে-ই ক্ষমতায় আসুক, আমাদের বাকস্বাধীনতা প্রয়োজন। এমনকি সরকারের সমালোচনা করারও অধিকার।”

গ্রামাঞ্চলের তরুণরা আয়কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন

বগুড়ার ফারহানা আক্তার (২১) বলেছেন, “আমরা বীজ ও সারের ওপর অনেক খরচ করি। কিন্তু যখন আমরা উৎপাদিত শবজি বিক্রি করি, তখন ন্যায্য মূল্য পাই না। আমরা আশা করি না একদিনে অলৌকিক কিছু ঘটবে। কিন্ত আমাদের প্রত্যাশা ধাপে ধাপে সবকিছু ভালো হবে।”

তবে কেউ কেউ আবার জামায়াত বা বিএনপি কারও সম্পর্কেই কিছু জানেন না। তারা শুধু চান তারা যেন আয় করতে পান। ২০ বছর বয়সী ঘোড়ার গাড়ির চালক মোহাম্মদ তারেক বলেছেন, “এবার আমরা একটি শান্তিপূর্ণ দেশ চাই। যেখানে তরুণরা কাজ করে আয় করতে পারবে, জুয়া খেলে বা অপরাধ করে নয়।”

কিছু তরুণ ভোটার আবার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তারা কি করবেন। ১৯ বছর বয়সী সুরাইয়া খাতুন বলেছেন, “আমার শুধু আওয়ামী সরকারের কথাই মনে আছে। আমি জানি না জামায়াত বা বিএনপি কীভাবে কাজ করবে। আমি এখনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি কাকে ভোট দেব।”

সূত্র: রয়টার্স

Share.
Exit mobile version