বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩ , ২০২৬
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনে উপাচার্য নিয়াজ আহমদের জন্য তেহরানে নিয়োগ প্রস্তাব (এগ্রিমো) পাঠিয়েছে সরকার।

ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, উপাচার্য নিয়াজ আহমদের নিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ইরান সরকার। সম্প্রতি তেহরান নতুন রাষ্ট্রদূতকে গ্রহণের সম্মতি জানিয়ে ঢাকায় গ্রিন সিগন্যাল পাঠিয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

অবশ্য পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, এগ্রিমো (নিয়োগ প্রস্তাব) এতদিনে চলে আসার কথা। হয়তো চলে আসছে।

কথিত আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্যকে রাষ্ট্রদূত পদে পুরস্কৃত করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল সরকারকে অনুরোধ করে। সেই আবদার রক্ষার্থে উপাচার্যকে ইউরোপের দেশ ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নিয়াজ আহমদের জন্য এগ্রিমো পাঠানো হয় কোপেনহেগেনে। অন্যদিকে, ডেনমার্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একেএম শহীদুল করিমকে ঢাকায় ফেরানোর প্রস্তুতি নেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না নিয়াজ আহমদের। নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন। শুধু অপেক্ষা ছিল কোপেনহেগেনের গ্রিন সিগন্যালের। সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হওয়ার আগেই আসে বাধা, গনেশ যায় উল্টে। পরে কোপেনহেগেনের বিকল্প চিন্তা করে সরকার। পদ শূন্য থাকা ইরানে নিয়াজ আহমদকে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত হয়। তেহরানে পাঠানো হয় নিয়োগ প্রস্তাব।

সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। সেই বিক্ষোভে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে, দেশটির শাসনব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রায়ই পশ্চিমাদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় থাকে ইরান। রাজনৈতিক অস্থিরতা লেগে থাকা তেহরান পছন্দ নয় নিয়াজ আহমদের। ইতোমধ্যে বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন সরকারে যারা আসবেন তাদের চাওয়া-পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে উপাচার্যকে তারা কোথায় দেখতে চান।

এদিকে, সংসদ নির্বাচনের দুদিন আগে উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা বলেছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য সরকার চাইলে আরও কিছুদিন দায়িত্ব চালিয়ে যেতেও রাজি আছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, বর্তমানে তেহরান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দিয়ে অফিসিয়াল কাজ চলছে। কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রাবেয়া সুলতানা এ দায়িত্বে রয়েছেন।

Share.
Exit mobile version